ইসলামী সমাজের উদ্যোগে- আজ ২৩ আগস্ট ২০২৫ইং, শনিবার, বিকেলে রাজধানীর পোস্তগোলা পিকআপ স্ট্যান্ডে “ইসলাম ও মানবতা বিরোধী সকল ব্যবস্থার মূলোৎপাটন এবং বৈষম্যমুক্ত ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে ‘ইসলাম’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে” ‘আলকুরআন বিরোধী সংবিধান মূলোৎপাটন সমাবেশ’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে ইসলামী সমাজের আমীর হজরত সৈয়দ হুমায়ূন কবীর বলেছেন- গণতন্ত্রের ভিত্তিতে রচিত আলকুরআন বিরোধী সংবিধান মেনে চলার পরিণতি দুনিয়ার জীবনে দুর্ভোগ ও অশান্তি এবং আখিরাতে নিশ্চিত ঠিকানা জাহান্নাম।
তিনি বলেন, গণতন্ত্রসহ মানব রচিত সকল ব্যবস্থা’ই দুনিয়ায় অকল্যাণ, অশান্তি এবং আখিরাতে জাহান্নামে যাওয়ার পথ। গণতন্ত্রের মাধ্যমে আল্লাহর পরিবর্তে জনগণকে ক্ষমতার মালিক, এমপিদেরকে আইন-বিধানদাতা ও মন্ত্রীদেরকে শাসনকর্তা মেনে নেয়া হয়, যা স্পষ্ট কুফর এবং শির্ক।
কুফর এবং শির্ক করার কারণে দেশ ও জাতির মানুষ ভয়াবহ আযাব-গজবের শিকার হয়ে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে চলছে।
তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রসহ মানব রচিত সকল ব্যবস্থা’ই মূলতঃ ইসলাম ও মানবতা বিরোধী মতবাদ এবং মানব রচিত ব্যবস্থার ভিত্তিতে রচিত সকল প্রকার সংবিধান পবিত্র আলকুরআন বিরোধী সংবিধান।
আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘদিন পর্যন্ত মানব রচিত ব্যবস্থা গণতন্ত্রের ভিত্তিতে রচিত আলকুরআন বিরোধী সংবিধানের অধীনে জীবন-যাপন করে আসছে। আলকুরআন বিরোধী সংবিধান মেনে চলার মাধ্যমে দেশ ও জাতির মানুষ সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর পরিবর্তে মানুষের সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও কর্তৃত্বের অধীনে বন্দি হয়ে মানুষের’ই দাসত্ব করছে।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক কিংবা মানব রচিত ব্যবস্থা ভিত্তিক রচিত আলকুরআন বিরোধী সংবিধানের আনুগত্যের অধীনে বন্দি থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে আখিরাতের জীবনে নিশ্চিত চিরস্থায়ী ঠিকানা হবে জাহান্নাম। গণতন্ত্রের অধীনে জোট, ভোট ও নির্বাচন এবং এসবকে সমর্থন করলে ঈমান ও আমল সবই বিনষ্ট হয়ে যায়।
‘ইসলামী সমাজ’ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এর দায়িত্বশীল, জনাব মোঃ সোহেল সাহেবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত “আলকুরান বিরোধী সংবিধান মূলোৎপাটন সমাবেশে সংগঠনের আমীর সৈয়দ হুমায়ূন কবীর বলেন, দুনিয়ার জীবনে কল্যাণ, শান্তি এবং আখিরাতে জাহান্নাম থেকে রক্ষা পেয়ে জান্নাত লাভ করতে হলে আলকুরআন বিরোধী সংবিধান পরিত্যাগ করে পবিত্র আলকুরআনকে সংবিধান গ্রহণ করে আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর প্রদর্শিত পদ্ধতিতে সমাজ ও রাষ্ট্রে আলকুরআনের আইন-বিধান প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকতে হবে।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ইচ্ছা ও বিশেষ সাহায্যে সমাজ ও রাষ্ট্রে আলকুরআনের আইন-বিধান প্রতিষ্ঠিত হলেই মানুষের জীবনে সুশাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।
সকলের সকল ন্যায্য অধিকার আদায় ও সংরক্ষণ হবে, সকল ধর্মের লোকেরা শান্তিপূর্ণভাবে যার যার ধর্ম পালন করতে পারবে এবং দুর্নীতি ও বৈষম্যমুক্ত ইনসাফ ভিত্তিক কল্যাণকর সমাজ ও রাষ্ট্র গঠিত হবে।
তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রের অধীনে জোট, ভোট ও নির্বাচন করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গিয়ে ‘ইসলাম’ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখা এটা শয়ত্বানের ধোকা ছাড়া আর কিছুই নয়। আবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়ার আগে সশস্ত্র লড়াই করে ইসলাম প্রতিষ্ঠা চেষ্টা করাও আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সা:) এর প্রদর্শিত পদ্ধতি নয়।
ঈমান ও ইসলামের দাওয়াতের মাধ্যমে দাওয়াত কবুলকারীদের নিয়ে আমীরের নেতৃত্বে জাহিলি সমাজের বিপরীতে ‘ইসলামী সমাজ’ গঠন আন্দোলন’ই সমাজ ও রাষ্ট্রে আলকুরআনের আইন-বিধান প্রতিষ্ঠার আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর প্রদর্শিত একমাত্র পদ্ধতি।
তিনি বলেন, ‘ইসলামী সমাজ’ গণতন্ত্রসহ মানব রচিত সকল ব্যবস্থা এবং এসবের ভিত্তিতে রচিত সকল প্রকার সংবিধান ত্যাগ, অস্বীকার ও অমান্য করে আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর প্রদর্শিত পদ্ধতিতে ঈমান ও ইসলামের দাওয়াতের মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রে আলকুরআনের আইন-বিধান প্রতিষ্ঠার আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
দলমত নির্বিশেষে সকলকে তিনি ইসলামী সমাজে শামিল হয়ে আলকুরআনের আইন-বিধান প্রতিষ্ঠার ঈমানী, নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানান।
‘ইসলামী সমাজ’ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এর সহকারী দায়িত্বশীল, জনাব আবু জাফর মোঃ সালেহ’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন- ‘ইসলামী সমাজ’ ঢাকা বিভাগীয় অঞ্চল-২ এর দায়িত্বশীল জনাব মুহাম্মাদ ইয়াছিন, ময়মনসিংহ বিভাগের দায়িত্বশীল সোলায়মান কবীর, চট্টগ্রাম বিভাগীয় অঞ্চল-১ এর দায়িত্বশীল মোঃ আজমুল হক, খুলনা বিভাগীয় অঞ্চল-২ এর দায়িত্বশীল আসাদুজ্জামান বুলবুল ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় অঞ্চল-২ এর দায়িত্বশীল জনাব আমীর হোসাইন প্রমুখ।
