আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
সম্মানিত দেশবাসী ভাই ও বোনেরা,
গণতন্ত্রসহ মানব রচিত সকল ব্যবস্থা এবং মানব রচিত ব্যবস্থার ভিত্তিতে রচিত আল-কুরআন বিরোধী সকল প্রকার সংবিধান আযাব-গজবের পথ। দেশ স্বাধীনের শুরু থেকেই বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন এবং পরিচালানয় গণতন্ত্রের ভিত্তিতে রচিত আল-কুরআন বিরোধী সংবিধান মেনে চলার মাধ্যমে দেশ ও জাতির মানুষ সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর পরিবর্তে মানুষকে সার্বভৌমত্বের মালিক, আইনদাতা-বিধানদাতা ও শাসনকর্তা গ্রহণ করে মানুষেরই আইন-বিধান পালনের মাধ্যমে মানুষের দাসত্ব করছে। যার কারণে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় জীবনে সংকট সৃষ্টি হয়েছে এবং মানুষের জান-মালের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
আযাব-গজবের পথ বহাল রেখে বিভিন্ন সময়ে সরকার পরিবর্তন হয়েছে- যারা সরকারে এসেছেন তারাই ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতি ও বৈষম্য সৃষ্টি করে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেছেন। শেখ হাসিনা আল-কুরআন বিরোধী সংবিধানের অধীনে থেকেই একনাগারে প্রায় ১৬ বছর ক্ষমতার অপব্যবহার করে ফ্যাসিবাদ কায়েমের মাধ্যমে প্রশাসনকে তার গোলামে পরিণত করেছিলো এবং পুরো জাতিকে তার গোলামে পরিণত করার আয়োজন করেছিলো। কিন্তু আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তার প্রতি চরম অসন্তুষ্ট হয়ে তাকে এবং তার দলকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে কঠিন বিপর্যয়ের মধ্যে ফেলে দিয়েছেন। এ ঘটনা থেকে অল্প সংখ্যক লোক ব্যতীত গোটা দেশ ও জাতির মানুষ কোন শিক্ষা গ্রহণ করেনি, তাদের উচিত ছিল আযাব-গজবের পথ গণতন্ত্র ও গণতন্ত্রের ভিত্তিতে রচিত আল-কুরআন বিরোধী সংবিধান ত্যাগ ও অমান্য করে মানুষের সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও শাসন কতৃত্বের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করা এবং একমাত্র সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর সার্বভৌমত্বের অধীনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাঁরই রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর প্রদর্শিত পদ্ধতিতে কল্যাণকর ও পরিপূর্ণ একমাত্র সংবিধান আল-কুরআনের আইন-বিধান দিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন এবং পরিচালনা করা, যা কল্যাণ ও মুক্তির একমাত্র পথ। এ পথেই মানুষের জীবনে সুশাসন ও ন্যায় বিচার নিশ্চিত হবে, সকল মানুষের সকল অধিকার আদায় ও সংরক্ষণ হবে, সকল ধর্মের লোকেরা যার যার ধর্ম শান্তিপূর্ণভাবে পালন করতে পারবে এবং দুর্নীতি ও বৈষম্যমুক্ত ইনসাফ ভিত্তিক কল্যাণকর সমাজ ও রাষ্ট্র গঠিত হবে।
অত্যন্ত দুঃখের বিষয় মুসলিম পরিচয়দানকারীগন সহ প্রায় গোটা জাতি শিক্ষা গ্রহণের পরিবর্তে আযাব-গজবের পথেই চলছে। দেশ ও জাতির অধিকাংশ মানুষ দুটো জোটে বিভক্ত হয়ে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় শাসন ক্ষমতা লাভের জন্য প্রতিযোগিতায় নেমেছে। গণতন্ত্র এবং গণতন্ত্রের ভিত্তিতে রচিত আল-কুরআন বিরোধী সংবিধানের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে যারাই রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বে আসবে তাদের নেতৃত্বেই গোটা জাতি আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ভয়াবহ আযাব-গজবের শিকার হবে। গণতন্ত্র এবং গণতন্ত্রের ভিত্তিতে রচিত আল-কুরআন বিরোধী সংবিধানের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল দলের অবস্থান ইসলামে নয়- জাহিলিয়্যাতে তথা কুফর এবং শিরকের মধ্যে। আল-কুরআন বিরোধী সংবিধানের অধীনে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া, ভোট দেওয়া, ভোট চাওয়া ও সমর্থন করা স্পষ্ট কুফর এবং শিরক। কুফর এবং শিরকের কারণে আযাব-গজবের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং এ অবস্থায় মৃত্যু বরণ করলে নিশ্চিত ঠিকানা হবে জাহান্নাম। ক্ষমতা ও আধিপত্য বিস্তার এবং অর্থ সম্পদের লোভে মানুষে মানুষে দ্বন্দ্ব-সংঘাত ও সংঘর্ষ মূলতঃ আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের আযাব-গজবেরই অংশ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন হলেও দেশ ও জাতির মানুষ আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের আযাব-গজব থেকে মুক্ত হবে না, কারণ যারাই ক্ষমতায় আসবেন তারা ইসলাম ও মানবতা বিরোধী মতবাদ গণতন্ত্র এবং গণতন্ত্রের ভিত্তিতে রচিত আল-কুরআন বিরোধী সংবিধান সংরক্ষণের দায়িত্ব পালন করবেন।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ভয়াবহ আযাব-গজব থেকে রক্ষা পেয়ে তাঁরই বিশেষ রহমতে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করার লক্ষ্যেই ‘ইসলামী সমাজ’ গণতন্ত্রসহ সকল মানব রচিত ব্যবস্থা এবং মানব রচিত ব্যবস্থার ভিত্তিতে রচিত আল-কুরআন বিরোধী সকল প্রকার সংবিধানের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করে একমাত্র আল্লাহর সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে তাঁরই রাসূল হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর প্রদর্শিত পদ্ধতিতে সমাজ ও রাষ্ট্রে আল-কুরআনের আইন-বিধান প্রতিষ্ঠার আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
দেশ ও জাতির সকলকে আমরা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের আযাব-গজব থেকে রক্ষা পেয়ে কল্যাণ ও মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামী সমাজে শামিল হয়ে “মানুষের নয়! সার্বভৌমত্ব একমাত্র আল্লাহর” এ মহাসত্যের ভিত্তিতে আল-কুরআনের আইন-বিধান প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আন্তরিক আহ্বান জানাচ্ছি। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন’ই আমাদের একমাত্র সহায় ও সাহায্যকারী। তিনি আমাদের সকলকে কল্যাণ ও মুক্তির পথে জীবন গড়ার তৌফিক দিন। আমীন।
সকল মানুষের সার্বিক কল্যাণ প্রত্যাশায়—
সৈয়দ হুমায়ূন কবীর
আমীর, ইসলামী সমাজ।