‘ইসলামী সমাজ’ এর উদ্যোগে গতকাল ১০ই মুহররম ১৪৪৭ হিজরি; ৬জুলাই ২০২৫ইং, রবিবার, সকাল ১০টায়, কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি থানাধীন কুশিয়ারা বাজার সংলগ্ন খানবাড়ী বালুর মাঠে- গণতন্ত্রসহ সকল মানব রচিত ব্যবস্থা এবং সমাজ ও রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত আলকুরআন বিরোধী সংবিধানের অধীন থেকে দেশ ও জাতির মানুষকে মুক্ত করে সমাজ ও রাষ্ট্রে রাসূলুল্লাহ্ মুহাম্মাদ (সাঃ) প্রদর্শিত পদ্ধতিতে আলকুরআনের আইন-বিধান প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে “মানুষের নয়! সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও নিরংকুশ শাসন কর্তৃত্ব একমাত্র আল্লাহর” এ
মহাসত্যের ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য গঠন এবং মৃত সকল ঈমানদার ভাই-বোনদের রুহের মাগফিরাত ও সকল মানুষের সার্বিক কল্যাণে দু’আর লক্ষ্যে- ২৮তম বার্ষিক ইসলামী মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মাহফিলে প্রধান বক্তার বক্তব্যে ইসলামী সমাজের আমীর হজরত সৈয়দ হুমায়ূন কবীর বলেছেন- সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন এবং পরিচালনার জন্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংবিধান।
আলকুরআনই হলো মানব জাতির জন্য কল্যাণকর ও পরিপূর্ণ একমাত্র সংবিধান। আলকুরআনের স্পষ্ট ঘোষণা মানুষের সমাজ ও রাষ্ট্রসহ সমগ্র বিশ্ব জগতের চূড়ান্ত মালিকানা এবং এসবের জন্য আইন-বিধান দেয়ার সার্বভৌম ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর, মানুষের নয়-ফলে দাসত্ব, আইনের আনুগত্য ও উপাসনা একমাত্র আল্লাহর, অন্য কারো নয়, এরই বাস্তবায়নে শর্তহীন আনুগত্য- অনুসরণ ও অনুকরণ একমাত্র হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর, অন্য কারো নয়- এসবই মহাসত্য।
তিনি বলেন, সকল ধর্মের লোকদের জন্য যার যার ধর্ম পালনের সুযোগ রেখে আলকুরআনের আইন-বিধান দিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্র গঠিত এবং পরিচালিত হলেই মানুষের জীবনে সুশাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে, সকলের সকল ন্যায্য অধিকার আদায় ও সংরক্ষণ হবে, দুর্নীতি ও বৈষম্যমুক্ত কল্যাণকর সমাজ ও রাষ্ট্র গঠিত হবে।
কিন্তু বর্তমানে বিশ্বের মানুষ তাদের সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন এবং পরিচালনায় আলকুরআন বিরোধী সংবিধান মেনে মানুষের সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও শাসন কর্তৃত্বের অধীনে বন্দি হয়ে মানুষের দাসত্ব করছে, যার কারণে তাদের দুনিয়ার জীবনে চরম অশান্তি বিরাজ করছে এবং তাদের আখিরাতের জীবনও ধ্বংস হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ প্রায় ৫৪ বছর পর্যন্ত গণতন্ত্রের ভিত্তিতে রচিত আলকুরআন বিরোধী সংবিধানের আনুগত্যের অঙ্গীকারে বন্দি হয়ে মানুষের মনগড়া আলকুরআন বিরোধী আইন-বিধান পালনের মাধ্যমে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অবাধ্য হয়ে তাঁর সাথে শিরকে লিপ্ত হয়ে আছে, যার কারণে দেশ ও জাতির মানুষ ভয়াবহ আযাব-গজবের মূখোমূখি অবস্থান করছে। গণতন্ত্রসহ মানব রচিত সকল ব্যবস্থাই মূলতঃ জাহিলিয়্যাত।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন এবং পরিচালনার জায়গায় জনগণ সকল ক্ষমতার উৎস-সার্বভৌমত্বের মালিক যা মহা মিথ্যা এবং শিরকে আকবার-ক্ষমার অযোগ্য মহা অপরাধ, এটাই মূলতঃ সবচেয়ে বড় জাহিলিয়্যাত।
গণতন্ত্র মেনে চলার কারণে বাংলাদেশের মুসলিম পরিচয় দানকারী লোকেরাও সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন এবং পরিচালনায় মানুষের সার্বভৌমত্ব আইন-বিধান ও শাসন কর্তৃত্ব মেনে মানুষের মনগড়া আইনের আনুগত্য স্বীকারের মাধ্যমে মানুষের দাসত্ব করছে বিধায় তারা ইসলামের বাহিরে তথা জাহিলিয়্যাতে অবস্থান করছে, যার কারণে তাদের আখিরাতের জীবনও ধ্বংস হচ্ছে।
দুনিয়ার জীবনে কল্যাণ, শান্তি এবং আখিরাতে মুক্তি লাভের একমাত্র উপায় হচ্ছে- মানব রচিত ব্যবস্থা ত্যাগ করে সমাজ ও রাষ্ট্রসহ জীবনের সকল ক্ষেত্রে ইসলাম গ্রহণের মাধ্যমে ইসলামের বিধি-বিধান মেনে চলা এবং মানুষের জীবনে আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর প্রদর্শিত শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিতে আলকুরআনের আইন-বিধান প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত চেষ্টা করতে থাকা। তাহলে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আলকুরআনের আইন-বিধান প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঈমানের সর্বোচ্চ পরীক্ষায় ঊত্তীর্ণ ঈমানদার আমলে সালেহ্কারীগণকে রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব দান করবেন [সূরা নূর: ৫৫]।
সৈয়দ হুমায়ূন কবীর বলেন, গণতন্ত্রের অধীনে নির্বাচন কিংবা সশস্ত্র লড়াই নয়! ঈমান ও ইসলামের দাওয়াতের মাধ্যমে ঈমানদারগণের সমাজ তথা ইসলামী সমাজ গঠন আন্দোলনই আলকুরআনের আইন-বিধান প্রতিষ্ঠায় ঈমানদারগণের রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব লাভের রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) প্রদর্শিত একমাত্র পদ্ধতি।
একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যেই ইসলামী সমাজ আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর প্রদর্শিত পদ্ধতিতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষের জীবনে আলকুরআনের আইন-বিধান প্রতিষ্ঠার আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
দল-মত নির্বিশেষে সকলকে তিনি ইসলামী সমাজে শামিল হয়ে কল্যাণ ও মুক্তির পথে জীবন, সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ার ঈমানী, নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব পালন করার আহবান জানান।
কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল হাফিজুর রহমান, হুমায়ূন কবীর, আবু জাফর মুহাম্মাদ সালেহ ও সেলিম মোল্লা’র যৌথ সঞ্চালনায় ৪ পর্বে অনুষ্ঠিত বার্ষিক মাহফিলে আরও বক্তব্য রাখেন- বিভাগীয় দায়িত্বশীল, জনাব মুহাম্মাদ ইউসুফ আলী মোল্লা, মুহাম্মাদ ইয়াছিন, সোলায়মান কবীর, মোঃ নুরুদ্দিন, আমীর হোসাইন, আজমুল হক, আসাদুজ্জামান বুলবুল, মুহাম্মাদ আলী জিন্নাহ্, আবু বকর সিদ্দিক, সাইফুল ইসলামসহ বিভিন্ন বিভাগের সহকারী দায়িত্বশীল, জেলা দায়িত্বশীল মহানগর দায়িত্বশীল এবং বিভিন্ন থানা পর্যায়ের দায়িত্বশীলগণ।
১১ই মুহররম, ৭ জুলাই, সোমবার সকাল ৯টায়, অনুষ্ঠিত মহিলা বার্ষিক ইসলামী মাহফিলে ‘ইসলামী সমাজ’ এর আমীর, হজরত সৈয়দ হুমায়ূন কবীর বলেন, মহিলাদেরকেও আলকুরআনের আইন-বিধান প্রতিষ্ঠায় শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে শামিল থেকে ঈমানী, নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি উপস্থিত মহিলাদেরসহ সকল মহিলা মুজাহিদ বোনদেরকে আল কুরআনের আইন-বিধান প্রতিষ্ঠায় ‘ইসলামী সমাজ’ গঠন আন্দোলনে সক্রীয় অংশ গ্রহনের আন্তরিক আহবান জানান।
