‘ইসলামী সমাজ’ এর আমীর হজরত সৈয়দ হুমায়ূন কবীর বলেছেন, ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের বর্বরোচিত হামলা এবং নৃশংস গণহত্যাকান্ড চরম মানবতা বিরোধী অপরাধ।
অবিলম্বে গাজায় ধ্বংস ও হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করতে জাতিসংঘ, ওআইসিসহ বিশ্ব সংস্থাগুলোকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
‘ইসলামী সমাজ’ এর উদ্যোগে আজ ৯ এপ্রিল ২০২৫ইং, বুধবার সকাল ১১ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সংগঠনের ঢাকা বিভাগীয় অঞ্চল-২ এর দায়িত্বশীল জনাব মুহাম্মদ ইয়াছিন এর সঞ্চালনায়
“আল কুরআন বিরোধী সংবিধানের অধিন থেকে দেশ ও জাতির মানুষকে মুক্ত করার এবং সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলামের আইন-বিধান প্রতিষ্ঠায় কর্মসূচি ঘোষণার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সংগঠনের আমীর হজরত সৈয়দ হুমায়ূন কবীর বলেন-
আজ বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রতিটি দেশে ইসলামের পরিবর্তে গণতন্ত্র, রাজতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ইত্যাদি কোন না কোন মানব রচিত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত আছে,
যার কারণে মানুষ মানবতা, মনুষ্যত্ব হারিয়ে হিংস্রতা ও পশুত্যের অতল গহ্বরে নিমজ্জিত হয়ে আছে।
যার দৃষ্টান্ত আমরা ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলী বাহিনীর বর্বরোচিত হামলার মাধ্যমে দেখতে পাচ্ছি।
হত্যা, খুন, গুম, ধর্ষন, মাদক, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসসহ বিভিন্ন রকম মানবতা বিরোধী অপরাধ দিন দিন বেড়েই চলছে।
তিনি বলেন, আল কুরআন বিরোধী মানব রচিত কোন ব্যবস্থা দিয়ে এসব সমস্যার সমধান হবেনা।
ইসলামের আইন-বিধানই একমাত্র সকল সমস্যার সমাধানের পথ একথার উল্লেখ করে তিনি বলেন,
গণতন্ত্র নামক আল কুরআন বিরোধী মানব রচিত ব্যবস্থা দ্বারা দীর্ঘকাল পর্যন্ত বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্র গঠিত এবং পরিচালিত হচ্ছে বিধায়; মানুষের জীবনে বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে এবং রাজনৈতিক বিপর্যয় মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।
তিনি বলেন, আল কুরআন বিরোধী সংবিধানের মূলোৎপাটন করে সমাজ ও রাষ্ট্রে একমাত্র ইসলামের আইন-বিধান প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই মানুষের জীবনে কল্যাণ ও শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।
আল কুরআন বিরোধী সংবিধানের মূলোৎপাটনের লক্ষ্যে ‘ইসলামী সমাজ’ সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর নির্দেশিত এবং তাঁরই রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর প্রদর্শিত পদ্ধতিতে ইসলামের আইন-বিধান প্রতিষ্ঠার আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
গণতন্ত্রসহ সকল মানব রচিত ব্যবস্থার অধীনে গঠিত ও পরিচালিত সমাজের বিপরীতে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও নিরংকুশ শাসন-কর্তৃত্বের অধীনে গঠিত ও পরিচালিত সমাজ’ই মূলতঃ ইসলামী সমাজ।
মানুষের সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও শাসন কর্তৃত্ব ত্যাগ করে একমাত্র সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও নিরংকুশ কর্তৃত্ব গ্রহণকারী লোকদের নিয়ে আল্লাহর মনোনীত আমীরের নেতৃত্বে ইসলামী সমাজ গঠন আন্দোলন চলতে থাকলে আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ইচ্ছায় আল কুরআন বিরোধী সংবিধানের ভিত্তিতে নেতৃত্বদানকারী নেতাদের পতন ঘটবে
এবং তাঁরই বিশেষ সাহায্য ও রহমতে ইসলামী সমাজের নেতৃত্ব সমাজ ও রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত হবে ইনশাআল্লাহ।
আর তখনি সকল ধর্মের লোকদের জন্য যার যার ধর্ম পালনের সুযোগ রেখে ইসলামী সমাজ পর্যায়ক্রমে ইসলামের আইন-বিধান মানুষের জীবনে প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তাদের সকল ন্যায্য অধিকার আদায় ও সংরক্ষণ করবে ইনশাআল্লাহ।
দলমত নির্বিশেষে সকলকে তিনি গণতন্ত্রসহ সকল মানব রচিত ব্যবস্থা এবং আল কুরআন বিরোধী সকল সংবিধানের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করে সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলামের আইন-বিধান প্রতিষ্ঠার শান্তিপূর্ণ প্রচেষ্টায় শামিল হওয়ার আন্তরিক আহবান জানান।
মানববন্ধন থেকে সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলামের আইন-বিধান প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৫ এপ্রিল থেকে ৭ মে ২০২৫ ইং পর্যন্ত রাজধানীর সকল থানা সমূহে গণসংযোগ, মিছিল, পথসভা ও লিফলেট বিলির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
১৫, ১৬ ও ১৭ এপ্রিল ২০২৫ইং মুহাম্মাদ ইউসুফ আলী মোল্লার নেতৃত্বে গঠিত টিমের মাধ্যমে- উত্তরখান, দক্ষিণখান, তুরাগ, উত্তরা পশ্চিম, গুলশান ও বনানী থানা এলাকায় এবং মুহাম্মাদ ইয়াছিন এর নেতৃত্বে গঠিত টিমের মাধ্যমে- উত্তরা পূর্ব, বিমান বন্দর, কাফরুল, ক্যান্টনমেন্ট, খিলক্ষেত ও ভাটারা থানা এলাকায় গণসংযোগ, মিছিল, পথসভা ও লিফলেট বিলি করা হবে।
২১,২২ ও ২৩ এপ্রিল মুহাম্মাদ ইউসুফ আলী মোল্লার নেতৃত্বে গঠিত টিমের মাধ্যমে- বাড্ডা, হাতিরঝিল, সবুজবাগ, মুগদা, তেজগাও ও তেজগাও শিল্পাঞ্চল থানা এলাকায় এবং মুহাম্মাদ ইয়াছিন এর নেতৃত্বে গঠিত টিমের মাধ্যমে- রামপুরা, খিলগাঁও, শাহজাহানপুর, পল্টন, শেরেবাংলা নগর ও কলাবাগান থানা এলাকায় গণসংযোগ, মিছিল, পথসভা ও লিফলেট বিলি করা হবে।
২৮, ২৯ ও ৩০ এপ্রিল মুহাম্মাদ ইউসুফ আলী মোল্লার নেতৃত্বে গঠিত টিমের মাধ্যমে- ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, সুত্রাপুর, গেন্ডারিয়া, ওয়ারী ও মতিঝিল থানা এলাকায় এবং মুহাম্মাদ ইয়াছিন এর নেতৃত্বে- কদমতলী, শ্যামপুর, বংশাল, কোতোয়ালী, রমনা ও শাহবাগ থানা এলাকায় গণসংযোগ, মিছিল, পথসভা ও লিফলেট বিলি করা হবে।
৫, ৬ ও ৭ মে মুহাম্মাদ ইউসুফ আলী মোল্লার নেতৃত্বে গঠিত টিমের মাধ্যমে- কামরাঙ্গীরচর, হাজারীবাগ, নিউমার্কেট, ধানমন্ডি, দারুস সালাম, শাহআলী ও মিরপুর থানা এলাকায় এবং মুহাম্মাদ ইয়াছিন এর নেতৃতে গঠিত টিমের মাধ্যমে- লালবাগ, চকবাজার, মুহাম্মাদপুর, আদাবর, ভাষানটেক, রুপনগর ও পল্লবী থানা এলাকায় গণসংযোগ, মিছিল, পথসভা ও লিফলেট বিলি করা হবে ইনশাআল্লাহ্।
মানববন্ধনে আরো উপস্থিত ছিলেন- সংগঠনের কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল, মুহাম্মাদ ইউসুফ আলী মোল্লা, সোলায়মান কবীর, আমীর হোসাইন, আবু বকর সিদ্দিক, আজমুল হক, মোঃ নুরুদ্দিন, মুহাম্মাদ আলী জিন্নাহ্, সেলিম মোল্লা, আসাদুজ্জামান বুলবুল, সাইফুল ইসলাম ও হাফিজুর রহমান প্রমুখ।
মানববন্ধন শেষে ফিলিস্তিনের সাধারণ মানুষের জান ও মালের উপর ইসরায়েলের বর্বরোচিত হামলা এবং নৃশংস হত্যাকান্ডসহ বিশ্বব্যাপী সংঘটিত সকল প্রকার মানবতা বিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
ইসলামী সমাজের সম্মানিত আমীর হজরত সৈয়দ হুমায়ূন কবীর সাহেবের নেতৃত্বে মিছিলটি প্রেসক্লাবের সামনের রাস্তা থেকে শুরু হয়ে দৈনিক বাংলার মোড় ঘুরে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেইটে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়।