www.islamisomaj.com islamisomaj, islami somaj, ইসলামী সমাজ, ইসলামী সমাজ অফিসিয়াল ওয়েব সাইট, আমীর ইসলামী সমাজ, দাওয়াতী সংঘঠন, ইসলাম, islamisomaj.com
সর্বশেষ:
Home » নিয়মিত পোষ্ট » গণতন্ত্রের অধীনে নির্বাচন কিংবা সশস্ত্র লড়াই ‘ইসলাম’ প্রতিষ্ঠায় ঈমানদারগণের রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব লাভের পদ্ধতি নয়- আমীর, ইসলামী সমাজ।

গণতন্ত্রের অধীনে নির্বাচন কিংবা সশস্ত্র লড়াই ‘ইসলাম’ প্রতিষ্ঠায় ঈমানদারগণের রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব লাভের পদ্ধতি নয়- আমীর, ইসলামী সমাজ।

islamisomaj, somabesh rajshahi আলকুরআন বিরোধী সংবিধান মূলোৎপাটন সমাবেশ, রাজশাহী। ইসলামী সমাজ।

ইসলামী সমাজের আমীর হজরত সৈয়দ হুমায়ূন কবীর বলেছেন, ইসলাম’ই দুনিয়ার জীবনে কল্যাণ, শান্তি এবং আখিরাতের জীবনে জাহান্নাম থেকে রক্ষা পেয়ে জান্নাত লাভের একমাত্র পথ। গণতন্ত্রসহ মানব রচিত সকল ব্যবস্থাই অকল্যাণ, অশান্তি এবং জাহান্নামের পথ।

আলকুরআন হলো মানুষের সমাজ ও রাষ্ট্রসহ সমগ্র জীবন গঠন এবং পরিচালনার জন্য সার্বভৌম ক্ষমতার একমাত্র মালিক সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্ প্রদত্ত কল্যাণকর ও পরিপূর্ণ একমাত্র সংবিধান। গণতন্ত্র তথা মানব রচিত ব্যবস্থার ভিত্তিতে রচিত সকল প্রকার সংবিধান আলকুরআন বিরোধী সংবিধান।যা

রা সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন এবং পরিচালনায় গণতন্ত্র তথা মানব রচিত ব্যবস্থা এবং আলকুরআন বিরোধী সংবিধান গ্রহণ করবে কিংবা মেনে চলবে তাদের অবস্থান ইসলামে নয়, ইসলামের বাহিরে তথা জাহিলিয়‍্যাতে।

ইসলামী সমাজের উদ্যোগে- গতকাল ১ নভেম্বর ২০২৫ইং, শনিবার, বিকেলে রাজশাহী মহানগরের জিরো পয়েন্ট, সাহেব বাজার বড় মসজিদের সামনে “ইসলাম ও মানবতা বিরোধী সকল ব্যবস্থার মূলোৎপাটন এবং বৈষম্যমুক্ত ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে ‘ইসলাম’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে” অনুষ্ঠিত ‘আলকুরআন বিরোধী সংবিধান মূলোৎপাটন সমাবেশে’ প্রধান বক্তার বক্তব্যে ইসলামী সমাজের আমীর হজরত সৈয়দ হুমায়ুন কবীর বলেন-

গণতন্ত্রের অধীনে নির্বাচন আল্লাহর পরিবর্তে মানুষকে সার্বভৌমত্বের মালিক মেনে অনুষ্ঠিত হয় বিধায়; এটা ইসলাম প্রতিষ্ঠায় আলকুরআন ও সুন্নাহসম্মত পদ্ধতি নয়। সমাজ ও রাষ্ট্রে মানব রচিত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত থাকাকালীন সময়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠায় ঈমানদারগণের রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব লাভের জন্য সশস্ত্র লড়াই ইসলাম বিরোধী অপতৎপরতা।

কারণ আল্লাহর রাসূল (সা:) এর রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব লাভের পূর্বে সশস্ত্র লড়াই করার নির্দেশ আল্লাহ্ দেননি এবং তিনি ও তাঁর সাহাবীগণ করেননি। আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) মদীনায় রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব লাভের পর বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে আল্লাহর নির্দেশে সশস্ত্র লড়াই করেছেন।

অতএব, সশস্ত্র লড়াই (কিতাল) ইসলাম প্রতিষ্ঠায় ঈমানদারগণের রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব লাভের পদ্ধতি নয়, বরং এটা রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব লাভের পর বিভিন্ন প্রেক্ষাপটের গুরুত্বপূর্ণ আমল।

তিনি আরও বলেন, গণতেেন্ত্রর অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে- অর্থাৎ প্রার্থী হলে, কোন প্রার্থীকে ভোট দিলে কিংবা কোন প্রার্থীর জন্য ভোট চাইলে কুফর এবং শিরক করা হয়, যার পরিণতি দুনিয়ার জীবনে অকল্যাণ, অশান্তি এবং আখিরাতের জীবনে নিশ্চিত ঠিকানা হবে জাহান্নাম।

‘ইসলামী সমাজ’ রাজশাহী জেলা দায়িত্বশীল জনাব মামুন মৃধা’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সংগঠনের আমীর সৈয়দ হুমায়ূন কবীর বলেন, দুনিয়ার জীবনে কল্যাণ, শান্তি এবং আখিরাতের জীবনে জাহান্নাম থেকে রক্ষা পেয়ে জান্নাত লাভ করতে হলে গণতন্ত্র ত্যাগ করতে হবে, অন্য কোন মানব রচিত ব্যবস্থা গ্রহণ না করে সমাজ ও রাষ্ট্রসহ জীবনের সকল ক্ষেত্রে ইসলাম গ্রহণ করতে হবে এবং আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সা:) এর প্রদর্শিত পদ্ধতিতে সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

তিনি বলেন, সবর ও ক্ষমার নীতিতে অটল থেকে আল্লাহর উপর পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে ইসলামের মৌলিক বিষয় সমূহের দাওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহর সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে তাঁরই আইন-বিধানের প্রতিনিধিত্বকারী আমীরের নেতৃত্বের আনুগত্যে দাওয়াত কবুলকারীগণের সমাজ গঠন আন্দোলন’ই ইসলাম প্রতিষ্ঠায় ঈমানদারগণের রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব লাভের একমাত্র পদ্ধতি।

এ পদ্ধতিতে রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব লাভ হলেই আলকুরআনের দিক-নির্দেশনা মোতাবিক পর্যায়ক্রমে ইসলাম বিরোধী আইন সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে মূলোৎপাটন করে ইসলামের আইন-বিধান প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

এটাই ইসলাম প্রতিষ্ঠার আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সা:) প্রদর্শিত পদ্ধতি। তিনি আরও বলেন- কল্যাণ, শান্তি ও মুক্তির লক্ষ্যে ‘ইসলামী সমাজ’ গণতন্ত্রসহ সকল মানব রচিত ব্যবস্থা ত্যাগ করেই সমাজ ও রাষ্ট্রসহ জীবনের সকল ক্ষেত্রে ইসলাম গ্রহণ করেছে এবং গণতন্ত্রসহ মানব রচিত সকল ব্যবস্থা ও সকল প্রকার উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেই আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সা:) এর প্রদর্শিত পদ্ধতিতে ইসলাম প্রতিষ্ঠার আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। রাসূল (সা:) প্রদর্শিত পদ্ধতিতে সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হলেই সকল মানুষের সকল ন্যায্য অধিকার আদায় ও সংরক্ষণ হবে,

সকল ধর্মের লোকেরা যার যার ধর্ম শান্তিপূর্ণভাবে পালন করতে পারবে এবং দুর্নীতি ও বৈষম্যমুক্ত ইনসাফ ভিত্তিক কল্যাণকর সমাজ ও রাষ্ট্র গঠিত হবে। আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সা:) এর প্রদর্শিত পদ্ধতিতে ইসলাম প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঈমানী, নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব।

দলমত নির্বিশেষে সকলকে তিনি ঈমানী, নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব পালনে ইসলামী সমাজে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান।

‘ইসলামী সমাজ’ রাজশাহী বিভাগ এর দায়িত্বশীল, জনাব হাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন- মুহাম্মাদ ইউসুফ আলী মোল্লা, মুহাম্মাদ ইয়াছিন, মোঃ আলী জিন্না, আবু শামাহ মিনহাজ উদ্দিন, মোঃ সোহেল, মোস্তফা জামিল সাদ, ফয়সাল আহমেদ, আব্দুর রশিদ, রানা ইসলাম, আলী আজম আরজু, ফারুক হোসেন, দুলাল হোসেন, আফজাল হোসেন, ওমর ফারুক ও নাহিদ ইসলাম প্রমুখ

উপরে যান