ইসলামী সমাজের আমীর হজরত সৈয়দ হুমায়ূন কবীর বলেছেন- গণতন্ত্রসহ মানব রচিত সকল ব্যবস্থা’ই ইসলাম বিরোধী মতবাদ। মানব রচিত ব্যবস্থার ভিত্তিতে রচিত সকল প্রকার সংবিধান পবিত্র আলকুরআন বিরোধী সংবিধান।
মানব রচিত ব্যবস্থা গণতন্ত্রের ভিত্তিতে রচিত আলকুরআন বিরোধী সংবিধান দিয়ে বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্র গঠিত এবং পরিচালিত বিধায়; দেশ ও জাতির মানুষ সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর পরিবর্তে মানুষের সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও কর্তৃত্বের অধীনে বন্দি হয়ে মানুষের’ই দাসত্ব করছে।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন এবং পরিচালনায় সার্বভৌমত্বের মালিক জনগণ, আইনদাতা ও বিধানদাতা সংসদ সদস্যগণ এবং শাসনকর্তা সরকার তথা মন্ত্রীগণ। সুতরাং, দেশ ও জাতির মানুষ গণতান্ত্রিক সংবিধান মেনে চলার মাধ্যমে আল্লাহর পরিবর্তে মানুষকে রব্ব ও ইলাহ গ্রহণ করে বা মেনে নিয়ে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সাথে কুফর এবং শিরকে লিপ্ত হয়ে আছে।
কুফর এবং শিরকের কারণেই দেশবাসী আল্লাহর’ই বিভিন্ন রকম আযাব-গজবের শিকার হয়ে চরম দুর্ভোগ ও অশান্তিতে কাল কাটাচ্ছে। দেশ ও জাতির মানুষ দল, উপদলে বিভক্ত হয়ে ক্ষমতা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘাত ও সংঘর্ষে লিপ্ত, যা মূলতঃ আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের আযাব-গজবেরই অংশ।
‘ইসলামী সমাজ’ রংপুর মহানগরের দায়িত্বশীল, জনাব ডা. নুরুন্নবী রুবেল এর সভাপতিত্বে আজ ৮ নভেম্বর ২০২৫ইং, শনিবার, রংপুর মহানগরের টাউন হল সাহিত্য মঞ্চে “ইসলাম ও মানবতা বিরোধী সকল ব্যবস্থার মূলোৎপাটন এবং বৈষম্যমুক্ত ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে ‘ইসলাম’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে” অনুষ্ঠিত ‘আলকুরআন বিরোধী সংবিধান মূলোৎপাটন সমাবেশে’ ইসলামী সমাজের আমীর বলেন, গণতন্ত্রসহ মানব রচিত সকল ব্যবস্থা’ই জাহান্নামের পথ।
গণতান্ত্রিক কিংবা মানব রচিত ব্যবস্থা ভিত্তিক রচিত আলকুরআন বিরোধী সংবিধানের আনুগত্যের অধীনে বন্দি থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে আখিরাতের জীবনে নিশ্চিত চিরস্থায়ী ঠিকানা হবে জাহান্নাম। গণতন্ত্রের অধীনে জোট, ভোট ও নির্বাচন এবং এসবকে সমর্থন করলে ঈমান ও আমল সবই বিনষ্ট হয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, ঈমান ও আমল রক্ষা করতে হলে আলকুরআন বিরোধী সংবিধান পরিত্যাগ করে পবিত্র আলকুরআনকে সংবিধান গ্রহণ করে আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর প্রদর্শিত পদ্ধতিতে সমাজ ও রাষ্ট্রে আলকুরআনের আইন-বিধান প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকতে হবে।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ইচ্ছা ও বিশেষ সাহায্যে সমাজ ও রাষ্ট্রে আলকুরআনের আইন-বিধান প্রতিষ্ঠিত হলেই মানুষের জীবনে সুশাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।
সকলের সকল ন্যায্য অধিকার আদায় ও সংরক্ষণ হবে, সকল ধর্মের লোকেরা শান্তিপূর্ণভাবে যার যার ধর্ম পালন করতে পারবে এবং দুর্নীতি ও বৈষম্যমুক্ত ইনসাফ ভিত্তিক কল্যাণকর সমাজ ও রাষ্ট্র গঠিত হবে।
গণতন্ত্রের অধীনে নির্বাচন কিংবা সশস্ত্র লড়াই নয়। কেবলমাত্র আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর প্রদর্শিত পদ্ধতিতে যারা আলকুরআনের আইন-বিধান প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকবে তারাই আল্লাহর ক্ষমা লাভ করে জান্নাতবাসী হবে। আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর প্রদর্শিত পদ্ধতিতে আলকুরআনের আইন-বিধান প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত প্রচেষ্টাই কল্যাণ ও মুক্তির একমাত্র পথ। সকল মানুষের সার্বিক কল্যাণে ‘ইসলামী সমাজ’ গণতন্ত্রসহ মানব রচিত সকল ব্যবস্থা এবং এসবের ভিত্তিতে রচিত সকল প্রকার সংবিধান ত্যাগ, অস্বীকার ও অমান্য করে আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর প্রদর্শিত পদ্ধতিতে ঈমান ও ইসলামের দাওয়াতের মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রে আলকুরআনের আইন-বিধান প্রতিষ্ঠার আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দলমত নির্বিশেষে সকলকে তিনি ইসলামী সমাজে শামিল হয়ে আলকুরআনের আইন-বিধান প্রতিষ্ঠার ঈমানী, নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানান।
‘ইসলামী সমাজ’ রংপুর বিভাগ এর সহকারী দায়িত্বশীল, জনাব মোঃ হুমায়ূন কবিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন- মুহাম্মাদ ইউসুফ আলী মোল্লা, আজমুল হক, সাইফুল ইসলাম, মিনহাজ উদ্দিন, গুলজার আহম্মদ, তৌহিদুর রহমান বাপ্পী ও আব্দুল্লাহ মোঃ রিশাদ প্রমুখ।