www.islamisomaj.com islamisomaj, islami somaj, ইসলামী সমাজ, ইসলামী সমাজ অফিসিয়াল ওয়েব সাইট, আমীর ইসলামী সমাজ, দাওয়াতী সংঘঠন, ইসলাম, islamisomaj.com
সর্বশেষ:
Home » সংগঠনের ইতিহাস

সংগঠনের ইতিহাস

“ইসলামী সমাজ” গঠনের ধারাবাহিক সংক্ষিপ্ত ইতিহাস:

ঐতিহাসিক কিশোরগঞ্জ জেলা, পাকুন্দিয়া থানার বন্দিগাঁহ গ্রামে ১৩২৪ বাংলা সালের পৌষ মাসে জন্ম গ্রহণ করেন, মুফতী

আবদুল জাব্বার (রাহিমাহুল্লাহ) তিনি ছিলেন বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন। যিনি তাঁর যৌবনের উষালগ্নেই অবিভক্ত

ভারত খ্যাত ছাহারানপুর মাদ্রাসায় অধ্যয়নকাল থেকেই রাজনীতির সাথে জড়িত হন। তদানীন্তন “জমিয়তে ওলামায়ে হিন্দ” এর

সমর্থক হিসাবে তিনি বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে সক্রীয় ভূমিকা পালন করেন। “জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ” এর সভাপতি, দেওবন্দ

মাদ্রাসার সদর মুর্দারিছ শায়খুল হাদীস হযরত হুসাইন আহমাদ মাদানী (রহঃ) ছিলেন তাঁর প্রথম রাজনৈতিক শিক্ষাগুরু। তাঁর

রাজনৈতিক জীবনের দ্বিতীয় শিক্ষাগুরু ছিলেন ভারতের শ্রেষ্ট আলেম দেওবন্দ মাদ্রাসার অন্যতম নামকরা উস্তাদ এবং নিখিল

ভারত জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের সভাপতি, হযরত শাব্বির আহমাদ ওসমানী (রহঃ)। ১৯৪৮ থেকে ১৯৫৪ সালের জুন পর্যন্ত

তিনি (আবদুল জাব্বার) জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম ও নেযামে ইসলাম পার্টিতে যুক্ত ছিলেন। ১৯৫৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে তিনি

জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন এবং পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলে জামায়াতে ইসলামী পরিচালিত আন্দোলনে তিনি কখনো

কিশোরগঞ্জ ও ময়মনসিংহের স্থানীয় নেতা হিসাবে, কখনো ঢাকা বিভাগীয় আমীর হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তিতে

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পুর্বে, পূর্ব পাকিস্তানের জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

(১) স্বাধীন বাংলাদেশ হওয়ার পর ১৯৭২ ইং সালের জুন মাসে তিনি “জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ” প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭২ সালের

১৫ জুন যে ৫জন লোক নিয়ে মুফতি আঃ জাব্বার জামাতে ইসলামী বাংলাদেশ গঠন করেন, তারা হলেন-

১) প্রাদেশিক সেক্রেটারী জনাব আঃ খালেক

২) জয়েন্ট সেক্রেটারী ও শ্রম বিভাগের সেক্রেটারী মাষ্টার শফিকুল্লা।

৩) ঢাকা শহর জামাতের সাবেক সেক্রেটারী মাও নুরুল ইসলাম।

৪) প্রাদেশিক অফিসের সহকারী আমিনুর রহমান মঞ্জু।

৫) চাষী কল্যান সমিতির সেক্রেটারী ডা: মায়েজুর রহমান।

প্রতিষ্ঠাতা আমীর হিসাবে দশ মাস দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তিতে ১৯৮৩ ইং সালে “জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ” এর আমীর

অধ্যাপক গোলাম আযমের সাথে নীতিগত বিরোধের কারণে তাঁর নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন এবং বিরোধের বিষয়গুলো

বিভিন্ন ফোরামে আলোচনা করেন। নীতিগত বিরোধের বিষয়ে মুফতী আবদুল জাব্বার (রাহিমাহুল্লাহ) এর বক্তব্য ছিল- সমাজ ও

রাষ্ট্র পরিচালনায়- (১) অধ্যাপক গোলাম আযম পরিচালিত জামায়াত মানুষের সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও কর্তৃত্ব অমান্য করেনি

বিধায়; সংগঠনটি একমাত্র আল্লাহর সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও নিরংকুশ কর্তৃত্বের পরিবর্তে সমাজ ও রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে মানুষের’ই

সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও কর্তৃত্বের অধীনেই আছে যা মূলত: আল্লাহর প্রতি ঈমানের বিরুদ্ধে অবস্থান। (২) মানুষেরই মনগড়া

আইনে রচিত সংবিধানের আনুগত্য অস্বীকার না করার কারণে সংগঠনটি একমাত্র আল্লাহর আইনের আনুগত্যের পরিবর্তে সমাজ

ও রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে মানুষেরই আইনের আনুগত্যের অধীনে আছে। (৩) মানুষের মনগড়া আইনের ভিত্তিতে নেতৃত্বদানকারী নেতাদের

আনুগত্য অস্বীকার  না করার কারণে সংগঠনটি আল্লাহর মনোনিত সর্বশেষ শর্তহীন আনুগত্য পাওয়ার অধিকারী একমাত্র নেতা

হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর আনুগত্যের পরিবর্তে সমাজ ও রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে মানুষেরই আইনের ভিত্তিতে নেতৃত্ব দানকারী নেতার

আনুগত্যের অধীনে আছে। এসব কারণে সংগঠনটির অবস্থান শিরক ও কুফরের মধ্যে এবং ইসলামে নয় জাহিলিয়াতে।

(২) সংগঠনের নেতা-কর্মীসহ দেশবাসী সকলকে শিরক ও কুফর থেকে মুক্ত করা এবং সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে

“জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ” এর প্রতিষ্ঠাতা আমীর হিসাবে মুফতী আবদুল জাব্বার (রাহিমাহুল্লাহ) ১৯৯৩ ইং সালের ৬ মে

জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সংগঠনের আমীরের দায়ীত্ব গ্রহণের বিষয়টি জাতির উদ্দেশ্যে ঘোষণা করেন এবং

একমাত্র আল্লাহর সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও নিরংকুশ কর্তৃত্বের ভিত্তিতে তাঁরই রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর প্রদর্শিত

পদ্ধতিতে ঈমানদার সৎকর্মশীল চরিত্রবান লোক গঠনে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরু করেন। ৭ই মে ১৯৯৩ ইং বিভিন্ন পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়।

দৈনিক ইত্তেফাক:- আবার জামায়াতের দায়ীত্ব গ্রহণ করলাম।

বাংলাবাজার পত্রিকা:- দ্বিতীয় জামায়াতে ইসলামীর আত্মপ্রকাশ- ৭২সালে আমিই জামায়াত প্রতিষ্ঠা করি; মাওঃ জাব্বার

দৈনিক দিনকাল:- চারিত্রিক দূর্বলতার কারনে জামায়াত নেতৃত্ব আপোষকামী; মাওলানা জাব্বার ।

দৈনিক জনতা:- ওদের ঈমান দুর্বল: গাড়ি-বাড়ির মোহ বর্তমান জামায়াতকে গ্রাস করেছে। মাওলানা জাব্বারের নেতৃত্বে আরেকটি জামায়াতে ইসলামী।

বাংলার বানী:- মাওলানা জাব্বারের নেতৃত্বে পাল্টা জামাত গঠন। আব্বাস আলী খানরা নারী নেতৃত্বের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।

পরবর্তিতে মানব রচিত ব্যবস্থার ভিত্তিতে গঠিত ও পরিচালিত সমাজের বিপরীতে “ইসলামী সমাজ” গঠনের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে

তাঁর (মুফতী আবদুল জাব্বার) নির্দেশে ১৯৯৭ ইং সালের ১৭ মে সংগঠনের সেক্রেটারী জেনারেল হজরত সৈয়দ হুমায়ূন কবীর “ইসলামী সমাজ” প্রতিষ্ঠা করেন।

অতঃপর- ২০০১ ইং সালের ২৯ জুন সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংগঠনের অগ্রগামী কর্মীদের নিয়ে  আমীর মুফতী

আব্দুল জাব্বার (রাহিমাহুল্লাহ) “ইসলামী বিপ্লবী পরিষদ” গঠন করেন। ইসলামী বিপ্লবী পরিষদ মূলতঃ ইসলামী সমাজ গঠন আন্দোলনেরই বিপ্লবী কমিটি। পরবর্তীতে ইসলামী বিপ্লবী পরিষদ নামক কমিটিও ভেঙ্গে দেওয়া হয়।

২০০৬ ইং সালের ২৩ জানুয়ারী দিবাগত রাত্রে সংগঠনের আমীর মুফতী আবদুল জাব্বার (রাহিমাহুল্লাহ) ইন্তেকাল করেন। (ইন্না

লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। ২০০৬ ইং সালের ২৬ জানুয়ারী কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল গণের পরামর্শের ভিত্তিতে হযরত সৈয়দ হুমায়ূন কবীর “সংগঠন ও ইসলামী সমাজ” এর আমীরের দায়িত্ব গ্রহন করেন।

২০০৯ ইং সালের ১ নভেম্বর ঢাকার বাসাবো অফিসে কেন্দ্রীয় দায়ীত্বশীলদের সাথে পরামর্শ করে কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে

আমীর ও মামুরের ধারায় আল্লাহর নির্দেশিত এবং তাঁরই রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) প্রদর্শিত পদ্ধতিতে ইসলামী সমাজ গঠন

আন্দোলনের মাধ্যমে ঈমানদার সৎকর্মশীল লোক গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। তখন থেকেই আমীর ও মামুরের ধারায় সৈয়দ হুমায়ূন কবীরের নেতৃত্বে ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

উপরে যান